About Me

Lazuk Hasan
Lazuk Hasan

হ্যালো, আমি লাজুক হাসান। ও হ্যা, এটা আমার নাম লাজুক হাসান। আমার সার্টিফিকেট নাম হচ্ছে হাসান হাফিজুর রাহমান। ডাক নাম লাজুক এবং সব মিলিয়ে লাজুক হাসান। যাই হোক পরবর্তী কথায় আসি – আমার জন্ম ফরিদপুর জেলার আলিপুর মহল্লায়। ছোট বেলায় বেশি সময় কেটেছে কৃষ্ণনগর গ্রামে যেখানে আমার দাদার বাড়ি। আমার ছাত্র জীবন শুরু হয় হাট গোবিন্দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়য়ে। সেখানে আমি তৃতীয় শ্রেনি পর্যন্ত পড়াশুনা করি এর পর চলে আসি ফরিদপুর জিলা স্কুলে। ৪র্থ শ্রেণীতে ভর্তি হই। পড়াশুনায় খুব একটা খারাপ ছিলাম না। আবার খুব যে ভালো তাও না। দেখতে দেখতে ২০০২ সালে এস.এস.সি শেষ করলাম।

এর পর চিন্তা করতে লাগলাম এইস.এস.সি করবো নাকি ডিপ্লোমা। আমার বাবার জোরাজোরিতে শেষ পর্যন্ত ডিপ্লোমা কোর্স এর জন্য ভর্তি হলাম ফরিদপুর পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট। আমার সাবজেক্ট ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। খুব বেশি ভালো লাগতোনা ওই সাবজেক্ট পড়তে। বাধ্য হয়ে চাকুরী করার মত পড়াশুনা করতাম। এবং ২০০৬ সালে যখন ফাইনাল সেমিস্টার পরীক্ষা তখন অসুস্থতার কারনে ফাইনাল সেমিস্টার পরীক্ষা দিতে পারলাম না। হয়ে গেলো সেমিস্টার গ্যাপ। এর পর ২০০৭ সালে ফাইনালি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করি। এর পর প্ল্যান হচ্ছে বি.এস.সি শেষ করবো।

চলে আসলাম গাজীপুরে। শুরু করলাম লিখাপড়া। বি.এস.সি এর জন্য তো খুব ই ভালো প্রিপারেশন নিতে হবে। একদিন আমার এক ফ্রেন্ড আমাকে বললো Unilever Bangladesh Limited -এ একটা ২ সপ্তাহের প্রোজেক্ট আছে ভালো টাকা পাওয়া যাবে। আমার CV জমা দিলাম। যথারীতি ইন্টারভিউতে ডাকল। সারা বাংলাদেশ থেকে ১৩ জনকে সিলেক্ট করা হলো এর ভেতর আমিও টিকলাম। এর পর BSC এর কোচিং বাদ দিয়ে শুরু করলাম প্রোজেক্ট এর কাজ। ২ সপ্তাহ কাজ করতে ভালোই লাগলো। প্রোজেক্ট শেষ করে বেশ কিছু টাকা পেলাম । ২ সপ্তাহে প্রায় ২৪,০০০ টাকা । আমার জীবনের সর্বপ্রথম চাকূরী করে ইনকাম। এর পর আবার ফিরে গেলাম আগের জায়গাতে পড়াশুনা করছি BSC এর জন্য।

lazuk-hasan-fb-cover-photo

একদিন হটাৎ করে ফোন আসলো Unilever Bangladesh Limited  থেকে। আমাকে বললো আমাদের আই.টি সাপোর্টে কিছু প্রোজেক্ট ম্যানেজার নেওয়া হবে। যারা আমাদের আগের প্রোজেক্ট এ কাজ করেছে তাদের থেকে বেস্ট পারফর্মার দের ভেতর থেকে ৪ জনকে বাছাই করা হয়েছে এর ভেতর আমিও আছি। আমি কি জব করতে রাজি আছি কিনা। চিন্তায় পড়ে গেলাম কি করবো। আব্বু-আম্মুর সাথে কথা বলে ফাইনালী ডিজিশান নিলাম চাকুরী শুরু করবো। এবং শুরু করে দিলাম চাকুরী জীবন। ভালোই লাগছিলো প্রথম প্রথম। ২ বছর পর আর চাকূরী ভালো লাগলো না। আমার স্বভাব একটু স্বাধীনচেতা টাইপের। এজন্য ২ বছর চাকূরী করে চাকুরী ছেরে দিলাম। পড়াশুনাতো আর ভালো লাগেনা কি করবো ভাবছি এদিকে আব্বু-আম্মু বাড় বাড় জোড় দিচ্ছে BSC শেষ করার জন্য।

ভর্তি হয়ে গেলাম Dhaka International University তে ইভিনিং ব্যাচ এ। সাব্জেক্ট Bcs in EETE. আমার এই সাব্জেক্ট এ পড়ার কোন ইচ্ছা ছিলোনা। বাবা-মা এর কতাহ মত শুরু করলাম আবার পড়াশুনা। মনে হত যেওন এটা আমার একটা চাকুরী। পরীক্ষায় পাশ করতে হবে সার্টিফিকেট আব্বু-আম্মুর হাতে জমা দিতে পারলেই চাকুরী শেষ। কারন চাকুরী করার ইচ্ছা আমার আর নেই। নিজে কিছু করবো এই উদ্যোগে চিন্তাভাবনা শুরু করলাম। অনেক রিসার্চ করে পেলাম ফ্রিলান্সিং অনেক ভালো পেশা এবং এখানে ভবিষ্যৎ আছে। যেই চিন্তা সেই কাজ। শুরু করে দিলাম ঘাটাঘাটি কি করা যায়।

আমি খুঁজে পেলাম Freelancer.com এবং একটা একাউন্ট করে ১০০% ফুলফিল করে কাজের জন্য বিড করলাম। প্রথম ৩/৫ টা বিডেই ১ টা কাজ পেয়ে গেলাম। আমার ফ্রিলান্সিং জীবনের প্রথম কাজ ছিল একটা লোগো ডিজাইন। আমি ২ দিনের ভেতর কাজ করে দিলাম। ক্লায়েন্ট আমাকে পেমেন্ট ও দিয়ে দিল। ২ দিনে লোগো ডিজাইন এর জন্য আমি পেলাম ১০০ ডলারের মত। ২০০৯ সালের কথা। ১০০ ডলার আমার কাছে অনেক কিছু। এর পর খুঁজতে খুঁজতে একেউন্ট করলাম oDesk.com যার বর্তমান নাম UpWork.com এখানে প্রোফাইল রেডি করে এখানেও বিড করা শুরু করলাম। প্রথম ১ সপ্তাহেই এখানে SEO এর একটা কাজ পেলাম। আমার ক্লাইন্ট এর নাম ছিল Andrew. প্রথম প্রোজেক্ট এ কাজ করলাম ৩ মাসের মত এবং আল্লাহর রহমতে ভালোই ইনকাম করা শুরু করলাম। ৩ মাস পর ওই কাজ শেষ করার পরই ক্লাইন্ট আমাকে আরেকটা কাজ দিল। নতুন কাজে আর বিড করার প্রোয়জন পরতোনা।

এভাবে ২ বছরের মত UpWork এ কাজ করলাম। এর পর ক্লাইন্ট আমাকে বলল তুমি চাইলে আমার কোম্পানিতে জয়েন করতে পারো। আমি তার কোম্পানিতে জয়েন করলাম। তার কোম্পানিও আসলে এত বড় কোন কোম্পানিনা। ফ্রিলান্স টাইপের অফিস। কিন্তু আমি খুশি। এভাবেই কাজ করতে থাকলাম। কখনো SEO আবার কখনো Web Design আবার কখনোবা Marketing. আপনি হয়তোবা ভাবছেন এত কাজ আমি কি করে জানতাম। আমি এত সব কাজ জানতাম না। আমি আমার ক্লায়েন্ট এর কাজ যখন করতাম আমি নিজেও কিছু লোক হায়ার করে নিয়েছিলাম আমার কাজে সহযোগিতা করার জন্য। তাদেরকে দিয়েই করাতাম।

এভাবে কাজ করতে করতে ২০১২/২০১৩ এর মাঝামাঝি আমি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে জানতে পাই। তখন আমি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বিষয়ে অনেক বেশি স্টাডি করতে লাগলাম। এবং ভাগ্যবশত পেয়ে গেলাম Vick Strizheus কে। এবং তার High Traffic Academy. কোর্স করে ফেললাম একটা। বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা। আমি প্রথম ৬ মাস ৫০০০ ডলারের উপর খরজ করে ফেলেছিলাম । ১ টা সেল ও আমি পাইনি। ৬ মাস পর প্রথম ১ টা সেল পেলাম ক্লিক ব্যাংক এ। কমিশন ছিল ১৭ ডলারের মত। আমি কি যে খুশি হয়েছিলাম আপনাকে বোঝাতে পারবোনা। এর পর থেকে আল্লাহর রহমতে খুব ই ভালো ভাবে আমার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং চলছে।

২০১৪ এর শেষের দিকে আমি বাংলাদেশ এ একটি কোম্পানি লাইসেন্স করলাম নাম BMIT এবং আমার নিজের অফিসে নিজেই কাজ শুরু করলাম। ওই সময়টাতে নিজের অফিসে টাইম দিতে গিয়ে আমার ক্লাইন্টের কাজ তেমন করতে পারতাম না। এর ভেতর আমারও আল্লাহর রহমতে আরো অনেক ক্লাইন্ট হয়ে গেছে। USA তে ৭ জনের খুব ভালো একটা টিম তৈরি করে ফেলেছি। আমার নিজের ভারচ্যুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে ৫ জনের মত কাজ করে। এবং আল্লাহর রহমতে ভালো একটা অবস্থান তৈরি করে নিতে সক্ষম হয়েছি। ২০১৫ সালের শেষের দিকে আমার ক্লায়েন্ট এর কাজ টা ছেয়ে দিলাম। নিজেই কাজ শুরু করলাম। USA থেকে লোকাল প্রোজেক্ট নিয়ে আউটসোর্স কর কাজ করে দিতাম । এবং সাথে নিজের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, সিপিএ মার্কেটিং, পএ পার কল ইত্যাদি কাজ চলছে।

২০১৬ সালে আমার আরেকটি আইটি ফার্ম এর রেজিস্ট্রেশন করালাম বাংলাদেশ থেকে নাম Mabs IT । আমার জীবনে আমি ১ টা প্রোডাক্ট সেল করে কমিশন পেয়েছিলাম ৪০০০ ডলার । (যদিও জীবনে ১ বারই পেয়েছি এত বড় কমিশন 😀 ) আল্লাহর রহমতে এখন খুব ভালো আছি এবং আলহামদুল্লিলাহ – ইনকাম এর দিক থেকে আমি খুশি। (আমি সরাসরি আমার ইনকাম সম্পর্কে কিছু বলতে চাচ্ছিনা)।

 

ধন্যবাদ এত সময় আমার সাথে থাকার জন্য। (লাজুক হাসান)